In an era where technology seamlessly integrates into every aspect of our lives, it comes as no surprise that even our weight management routines have become smarter. The advent of smart scale weight machines has transformed traditional weighing scales into advanced health monitoring devices. These intelligent devices offer a multitude of features beyond weight measurement, empowering individuals to track and manage their overall health with precision. In this article, we will explore the benefits and functionalities of smart scale weight machines and understand how they are revolutionizing personal health tracking.
Accurate Weight Measurement:
The primary function of a smart scale weight machine is to measure your weight accurately. Equipped with high-precision sensors, these devices provide precise weight readings down to the decimal point. Many smart scales also feature multiple user profiles, allowing different individuals in a household to track their weight separately. With this accuracy, users can monitor their progress more effectively and set realistic goals for weight management.
Body Composition Analysis:
Unlike traditional scales, smart scales offer advanced body composition analysis. By utilizing bioelectrical impedance technology, these devices can measure various metrics such as body fat percentage, muscle mass, bone density, and water weight. This comprehensive analysis provides a more holistic understanding of your body composition, enabling you to track changes beyond just weight. By monitoring these metrics, you can make informed decisions about your fitness and diet routines to achieve specific health goals.
Integration with Mobile Apps:
Smart scale weight machines sync seamlessly with mobile applications, transforming them into comprehensive health tracking platforms. Once connected to your smartphone via Bluetooth or Wi-Fi, the scale transfers your data to the app, where it is presented in an easy-to-understand format. These apps often provide personalized insights, trends, and graphs, allowing you to visualize your progress over time. Some apps even offer additional features like calorie tracking, goal setting, and integration with other fitness devices, creating a centralized hub for your health management.
Health Monitoring Beyond Weight:
One of the most significant advantages of smart scales is their ability to monitor health beyond weight measurement. By leveraging additional sensors and algorithms, these devices can estimate metrics like heart rate, heart rate variability, and even air quality in your surroundings. This expanded functionality allows you to keep track of your cardiovascular health, stress levels, and environmental factors that may impact your overall well-being. The integration of these features into a single device eliminates the need for multiple health monitoring gadgets, providing convenience and efficiency.
Data Privacy and Security:
With the increasing concerns surrounding data privacy, smart scale weight machines prioritize the security of your personal health information. Reputable manufacturers employ robust encryption protocols and stringent privacy policies to safeguard your data. Furthermore, many devices allow you to control the sharing of your information and provide options to maintain your anonymity while still benefiting from the features and insights offered by the app.
Conclusion:
The advent of smart scale weight machines has revolutionized personal health tracking by providing accurate weight measurement, comprehensive body composition analysis, and integration with mobile apps. These intelligent devices empower individuals to take control of their health and make informed decisions based on a range of metrics beyond just weight. With the ability to monitor and track progress over time, users can set realistic goals, make adjustments to their fitness routines, and achieve better overall well-being. As technology continues to evolve, smart scales are expected to become even more sophisticated, making them an indispensable tool for those seeking a comprehensive and personalized approach to health management.
ঘুমাতে যাওয়ার আগে রাসূল (সা) বেশ কিছু আমল করতেন। এই সুন্নাহগুলো পালন করার মাধ্যমে আমরা আমাদের ঘুমকেও ইবাদতের সমতুল্য করে তুলতে পারি। ঘুমানোর আগের সুন্নাহগুলো প্রথমে পয়েন্ট আকারে তুলে ধরে পরে বিস্তারিত বর্ণনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।
১। ব্যবহার্য থালা-বাসন, হাড়ি-পাতিল ঢেকে রাখা ও বাতি নিভিয়ে দেয়া ২। অযু করা ৩। ঘুমের পূর্বে পড়ার জন্য বিশেষ কয়েকটি দুয়া আছে সেগুলো পড়া (যেমনঃ আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া) ৪। সূরা কাফিরুন, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস পড়া ৫। ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়া ৬। আয়াতুল কুরসী পড়া ৭। সূরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত পড়া ৮। সূরা সাজদাহ ও সূরা মুলক পড়া ৯। ডান কাত হয়ে ঘুমানো
উপরের পয়েন্টগুলোর বিস্তারিত ও রেফারেন্স নিচে পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হলোঃ
১। ব্যবহার্য থালা-বাসন, হাড়ি-পাতিল ঢেকে রাখা ও বাতি নিভিয়ে দেয়া ——————————— জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
যখন রাত্রের আঁধার নেমে আসে, অথবা বলেছেনঃ সন্ধ্যা হয়, তখন তোমাদের শিশুদেরকে (বাইরে যাওয়া থেকে) আবদ্ধ রাখো। কেননা সে সময় শয়তান ছড়িয়ে পড়ে। তবে রাতের কিছু সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলে তাদেরকে ছেড়ে দাও এবং বিসমিল্লাহ বলে ঘরের দরজাসমূহ বন্ধ করো। কারণ শয়তান বদ্ধদ্বার খুলতে পারে না। আর বিসমিল্লাহ পড়ে তোমাদের মশকগুলোর মুখ বন্ধ করো এবং বিসমিল্লাহ বলে তোমাদের পাত্রগুলোও ঢেকে রাখো। (ঢাকার কিছু না পেলে) কোন কিছু আড়াআড়িভাবে হলেও পাত্রের উপর রেখে দাও। (আর ঘুমানোর সময়) বাতিগুলো নিভিয়ে দাও। (বুখারী ও মুসলিম)
২। অযু করা ———————————————– হজরত বারা ইবনে আযিব হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছেন,
‘যখন তুমি তোমার শয্যা গ্রহণের ইচ্ছা করবে, তখন সালাতের ন্যায় অজু করে ডান কাত হয়ে শয়ন করবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)
যে ব্যক্তি পবিত্রাবস্থায় (অজু অবস্থায় ) ঘুমায় তার সাথে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকে। অতঃপর সে ব্যক্তি ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সাথে সাথেই আল্লাহর সমীপে ফেরেশতাটি প্রার্থনায় বলে থাকে, হে আল্লাহ! তোমার অমুক বান্দাকে ক্ষমা করে দাও, কেননা সে পবিত্রাবস্থায় ঘুমিয়েছিল।’ (আল ইহসান ফি তাকরিব, সহীহ ইবনে হিব্বান)
৩। ঘুমের পূর্বে পড়ার জন্য বিশেষ কয়েকটি দুয়া আছে সেগুলো পড়া ———————————————————— ক. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন তখন তাঁর ডান হাত তাঁর গালের নীচে রাখতেন, তারপর এ দো‘আটি বলতেন:
হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি আমার আত্মাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনি তার মৃত্যু ঘটাবেন। তার মৃত্যু ও তার জীবন আপনার মালিকানায়। যদি তাকে বাঁচিয়ে রাখেন তাহলে আপনি তার হেফাযত করুন, আর যদি তার মৃত্যু ঘটান তবে তাকে মাফ করে দিন। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে নিরাপত্তা চাই। মুসলিম ৪/২০৮৩, নং ২৭১২; আহমাদ, তাঁর শব্দে ২/৭৯, নং ৫৫০২।
হে আল্লাহ! হে সপ্ত আকাশের রব্ব, যমিনের রব্ব, মহান ‘আরশের রব্ব, আমাদের রব্ব ও প্রত্যেক বস্তুর রব্ব, হে শস্য-বীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী, হে তাওরাত, ইনজীল ও কুরআন নাযিলকারী, আমি প্রত্যেক এমন বস্তুর অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, যার (মাথার) অগ্রভাগ আপনি ধরে রেখেছেন (নিয়ন্ত্রণ করছেন)।
হে আল্লাহ! আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কিছুই ছিল না; আপনি সর্বশেষ, আপনার পরে কোনো কিছু থাকবে না; আপনি সব কিছুর উপরে, আপনার উপরে কিছুই নেই; আপনি সর্বনিকটে, আপনার চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই, আপনি আমাদের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে অভাবগ্রস্ততা থেকে অভাবমুক্ত করুন।
সকল প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য, যিনি আমাদেরকে আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন, আমাদের প্রয়োজন পূর্ণ করেছেন এবং আমাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন। কেননা, এমন বহু লোক আছে যাদের প্রয়োজনপূর্ণকারী কেউ নেই এবং যাদের আশ্রয়দানকারীও কেউ নেই। মুসলিম ৪/২০৮৫, নং ২৭১৫
হে আল্লাহ! হে গায়েব ও উপস্থিতের জ্ঞানী, হে আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, হে সব কিছুর রব্ব ও মালিক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আমার আত্মার অনিষ্ট থেকে, শয়তানের অনিষ্টতা থেকে ও তার শির্ক বা তার ফাঁদ থেকে, আমার নিজের উপর কোনো অনিষ্ট করা, অথবা কোনো মুসলিমের দিকে তা টেনে নেওয়া থেকে। আবূ দাউদ, ৪/৩১৭, নং ৫০৬৭; তিরমিযী, নং ৩৬২৯; আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৪২।
চ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘তোমাদের কোনো ব্যক্তি তার বিছানা ত্যাগ করলো, আবার ঘুমাতে ফিরে এলো সে যেন তার চাদর বা লুঙ্গির আঁচল দিয়ে তিনবার বিছানাটি ঝেড়ে নেয়। আর যেন সে বিসমিল্লাহ পড়ে, (আল্লাহর নাম নেয়); কেননা সে জানে না যে, তার চলে যাবার পর এতে কী পতিত হয়েছে।
আমার রব! আপনার নামে আমি আমার পার্শ্বদেশ রেখেছি (শুয়েছি) এবং আপনারই নাম নিয়ে আমি তা উঠাবো। যদি আপনি (ঘুমন্ত অবস্থায়) আমার প্রাণ আটকে রাখেন, তবে আপনি তাকে দয়া করুন। আর যদি আপনি তা ফেরত পাঠিয়ে দেন, তাহলে আপনি তার হেফাযত করুন যেভাবে আপনি আপনার সৎকর্মশীল বান্দাগণকে হেফাযত করে থাকেন।
বুখারী, ফাতহুল বারীসহ ১১/১২৬, নং ৬৩২০; মুসলিম ৪/২০৮৪, নং ২৭১৪।
ফরওয়াহ ইবনু নাওফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে এসে বললেন,
“হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাকে কিছু শিখিয়ে দিন, যা আমি বিছানাগত হওয়াকালে বলতে পারি।”
তিনি বললেনঃ তুমি “কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন” সূরাটি তিলাওয়াত কর। কারণ তা শিরক হতে মুক্তির ঘোষণা।
সহীহঃ তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ১/২০৯)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীগণকে বললেন, “তোমরা কি এক রাতে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়তে পারনা”? প্রস্তাবটি সাহাবাদের জন্য কঠিন মনে হল। তাই তাঁরা বলে উঠলেন, “হে আল্লাহর রসুল! এই কাজ আমাদের মধ্যে কে করতে পারবে?” (অর্থাৎ কেউ পারবে না।) তিনি বললেন, “ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস স্বামাদ” (সুরা ইখলাস) কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান”।. (অর্থাৎ এই সুরা পড়লে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়ার সমান নেকী পাওয়া যাবে)।
সহীহুল বুখারী ৫০১৫, নাসায়ী ৯৯৫, আবু দাউদ ১৪৬১, আহমাদ ১০৬৬৯
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি রাত্রে শয্যা গ্রহনের সময় তালুদ্বয় একত্রিত করে তাতে সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে ফুঁ দিতেন। অতঃপর হাতদ্বয় দ্বারা শরীরের যতদূর পর্যন্ত বুলানো সম্ভব হতো, ততদূর পর্যন্ত বুলিয়ে নিতেন। স্বীয় মাথা, চেহারা এবং শরীরের সামনের দিক থেকে আরম্ভ করতেন। এইভাবে তিনি তিনবার করতেন।’’ (বুখারী ৫০১৭)
এটা জাদু-টোনা ও দুষ্ট জ্বীন-শয়তান থেকে ব্যক্তিকে নিরাপদ রাখবে ইনশাআল্লাহ।
৫। ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়া —————————————————————
আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, ফাতিমা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে একটি চাকর চাইলে, তিনি বললেন, “আমি কি তোমাদের দু’জনকে এমন জিনিস বলে দেবো না, যা তোমাদের চাকরের চেয়ে উত্তম? তোমরা যখন বিছানায় শুতে যাবে, তখন ৩৪ বার আল্লাহু আকবর, ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ এবং ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ পড়বে। এটা তোমাদের চাকরের চেয়েও উত্তম।” (বুখারী ৬৩১৮, মুসলিম ৬৯১৫)
৬। আয়াতুল কুরসী পড়া ———————————- নবী (সা) বলেনঃ “যখন বিছানায় ঘুমুতে যাবে আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে, তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার উপর সব সময় একজন হেফাযতকারী নিযুক্ত থাকবে এবং ভোর পর্যন্ত শয়তান তোমার ধারে কাছেও আসতে পারবে না।” সহীহ বুখারী, খন্ড ৬, অধ্যায় ৬১, হাদিস নং- ৫৩০
অনুবাদঃ আল্লাহ্, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ্ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়। আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমীনে যা রয়েছে সবই তাঁর। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁর ‘কুরসী’ আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।
৭। সূরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত পড়া ——————————————————
অনুবাদঃ রাসূল তার প্রভুর পক্ষ থেকে যা তার কাছে নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহ্র উপর, তাঁর ফেরেশ্তাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের উপর। আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। হে আমাদের রব! আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।
আল্লাহ্ কারো উপর এমন কোন দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না যা তার সাধ্যাতীত। সে ভাল যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই, আর মন্দ যা কামাই করে তার প্রতিফল তার উপরই বর্তায়। ‘হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের উপর তেমন বোঝা চাপিয়ে দিবেন না। হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না যার সামর্থ আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের পাপ মোচন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনিই আমাদের অভিভাবক। অতএব কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি রাতের বেলা সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়বে সেটা তার জন্য যথেষ্ঠ হবে”। সহীহ বুখারিঃ ৫০১০, সহীহ মুসলিমঃ ৮০৭।
বিখ্যাত হাদীস গ্রন্থ “রিয়াদুস সালেহীন” এর লেখক ও সহীহ মুসলিমের ভাষ্যকার, ইমাম আন-নববী (রহঃ) বলেন, “এর অর্থ কেউ বলেছেনঃ কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য যথেষ্ঠ হবে। কেউ বলেছেনঃ শয়তানের ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য যথেষ্ঠ হবে। কেউ বলেছেনঃ বালা-মুসিবত থেকে নিরাপত্তা পাওয়া যাবে। তবে সবগুলো অর্থ সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৮। সূরা সাজদাহ ও সূরা মুলক পড়া ——————————————————– “রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আলিফ লাম মীম তানজিলুল কিতাব (সুরা আস-সাজদা) ও তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলকু (সুরা মুলক) তেলাওয়াত না করে কোন দিন ঘুমাতেন না” সুনানে আত-তিরমিযী ২৮৯২, মুসনাদে আহমাদ ১৪২৯। শায়খ আলবানীর মতে হাদীসটি সহীহ, সহীহ তিরমিযী ৩/৬
হে আল্লাহ! আমি নিজেকে আপনার কাছে সঁপে দিলাম। আমার যাবতীয় বিষয় আপনার কাছেই সোপর্দ করলাম, আমার চেহারা আপনার দিকেই ফিরালাম, আর আমার পৃষ্ঠদেশকে আপনার দিকেই ন্যস্ত করলাম; আপনার প্রতি অনুরাগী হয়ে এবং আপনার ভয়ে ভীত হয়ে। একমাত্র আপনার নিকট ছাড়া আপনার (পাকড়াও) থেকে বাঁচার কোনো আশ্রয়স্থল নেই এবং কোনো মুক্তির উপায় নেই। আমি ঈমান এনেছি আপনার নাযিলকৃত কিতাবের উপর এবং আপনার প্রেরিত নবীর উপর।”
না, এটি একটি পণ্য নয়। এটা একটা মৃতদেহ। এটা আমাদের মত কারো লাশ।
দেখ, তুমি কতটা মূল্যবান..!
মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য কেউ অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করার চিন্তাও করেনি। সবাই জানে এই শরীর আর উৎপাদনশীল নয়। লাশের পেছনে কেউ টাকা খরচ করতে চায় না। কিন্তু আপনি যখন জীবিত ছিলেন, আপনি তাদের যত্ন নিলেন। তারা আপনার জন্য যত্নশীল. তুমি যখন মৃতদেহ হয়ে গেলে, তুমি তাদের কাছে কিছুই না।
তবুও তুমি এই পৃথিবীর জন্য কাঁদো। তারপরও তোমাকে নিয়ে গর্ববোধ হয়।
পা পিছলে দু পাহাড়ের মাঝে পড়ে আটকে গেছে হরিণটি। তার শিং দুটো পাহাড়ের উপরে আটকে আছে। গলা তার টানটান অবস্থায়। মনে হয় এখনি ছিড়ে যাবে। তার পা নিচে জমিনে পর্যন্ত যায় নি। আর সে লাফ দিয়ে উঠতে পারলোনা উপরেও।
সে বুঝতে পারলো – একা উঠতে চেষ্টা করলেও সে পারবেনা। তারপর……চিৎকার দিলো……… বিলাপ ধরে কান্না করলো। ডাক দিলো। হয়তো কেউ আসবে তাকে বাঁচাতে। এই সঙ্কট থেকে উদ্ধার করতে। কেউ আসবে।
কিন্তু….না! কেউ আসেনি। তার জন্মদাত্রী মা’ও আসেনি। আসেনি কষ্ট করে অতি যত্নে লালনকারা পিতাও। এমনকি প্রতিটা সময় তার পিছন পিছন ঘুরতে থাকা হিংস্র পশুরাও আসেনি তাকে সাহায্য করতে।
রাতটা ক্রমশই অন্ধকারাচ্ছন্ন হচ্ছে। সাথে শীতের হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডা বাতাসও বয়ে যাচ্ছে।
অতঃপর একজন আসলো.. যে প্রত্যেক প্রাণীর কাছে একবার অবশ্যই আসবে। হরিণটিকে সাহায্য করলেন।
সে তার রুহ নিয়ে নিলেন। শুধু তার হাড় – মাংস – নাড়ীভুঁড়ি সেই স্থানেই রেখে দিলেন। সে আর অপরিচিত কেউ নয় – পরিচিত মৃত্যু!
★যে মহান রবের সৃষ্টি জগতের প্রত্যেক প্রাণীকে তার তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করাবে। সে তোমার কাছেও আসবে। অতএব… আমল করে যাও… নিজের আমল নামাকে সমৃদ্ধ করো।
★ আল্লাহর কাছে সর্বদা সফলতার আশা রাখো।♡ ••কারন তোমার মৃত্যু খুবই নিকটেই অবস্থান করছে
হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. কার্ট রিকটার ইঁদুরদের দিয়ে একটা পরীক্ষা করেন। এই পরীক্ষায় ইঁদুরগুলোকে একটা করে পানিভরা পাত্রে, ছবিতে যেমন দেখতে পাচ্ছেন তেমনিভাবে, ছেড়ে দেয়া হয় আর সময় নোট করা হয়। ইঁদুরগুলো গড়ে ১৫ মিনিট ভেসে থাকে, এরপর ক্লান্ত হয়ে ডুবে যায়।
ডুবে যাওয়ার মুহুর্তে ইঁদুরগুলোকে তুলে আনা হয়, গা মুছে শুকিয়ে বিশ্রামের সুযোগ দেয়া হয়, এরপর আবার আগের মতো পানিতে ছেড়ে দেয়া হয়।
এবার ইঁদুরগুলো কতক্ষণ ভেসে ছিলো? কী মনে হয়?
৫ মিনিট ? ১০ মিনিট ? ১৫ মিনিট ? আধা ঘন্টা ? এক ঘন্টা ?
ইঁদুরগুলো আগেরবার উদ্ধার পেয়ে যাওয়ায় এটা বিশ্বাস করে নিয়েছিলো, এবারো উদ্ধার পেয়ে যাবে। তাই ছটফট করেনি, এনার্জি লস করেনি। আশা এমনই জাদুময় ব্যাপার।
যদি ইঁদুরেরা আশার কারণে ১৫ মিনিট থেকে ৬০ ঘন্টা ভেসে থাকে, তাইলে ভাবুন,
পৃথিবীর বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার, ব্লগার ও লেখক “কিরজেইডা রডরিগুয়েজ” “ক্যান্সরে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার আগে লিখে যাওয়া একটি নোট।
১.পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ব্রান্ডের গাড়িটি আমার গ্যারাজে পড়ে আছে। কিন্তু আমাকে বসে থাকতে হয় হুইল চেয়ারে।
২.সব রকমের ডিজাইনের কাপড়, জুতো, দামি জিনিসে আমার গৃহ ভরপুর। কিন্তু আমার শরীর ঢাকা থাকে হাসপাতালের দেয়া সামান্য একটা চাদরে।
৩.ব্যাংক ভর্তি আমার টাকা। কিন্তু সেই টাকা এখন আর আমার কোনো কাজে লাগে না।
৪.প্রাসাদের মতো আমার গৃহ কিন্তু আমি শুয়ে আছি হাসপাতালের টুইন সাইজের একটা বিছানায়।
৫.এক ফাইভ স্টার হোটেল থেকে আরেক ফাইভ স্টার হোটলে আমি ঘুরে বেড়াতাম। কিন্তু এখন আমার সময় কাটে হাসপাতালের এক পরীক্ষাগার থেকে আরেক পরীক্ষাগারে।
৬.শত শত মানুষকে আমি অটোগ্রাফ দিয়েছি- আর আজ ডাক্তারের লেখা প্রেসক্রিপশানটাই আমার অটোগ্রাফ।
৭.আমার চুলের সাজের জন্য সাতজন বিউটিশিয়ান ছিলো-আজ আমার মাথায় কোনো চুলই নেই।
৮.ব্যক্তিগত জেটে আমি যেখানে খুশী, সেখানেই উড়ে যেতে পারতাম। কিন্তু হাসপাতালের বারান্দায় যেতেও এখন আমার দুজন মানুষের সাহায্য নিতে হয়।
9.পৃথিবীব্যাপী ভরপুর নানা খাবার থাকলেও দিনে দুটো পিল আর রাতে কয়েক ফোঁটা স্যালাইন আমার খাবার।
এই গৃহ, এই গাড়ী, এই জেট, এই আসবাবপত্র, এতো এতো ব্যাংক একাউন্ট, এতো সুনাম আর এতো খ্যাতি এগুলোর কোনো কিছুই আমার আর কোনো কাজে আসছে না। এগুলোর কোনো কিছুই আমাকে একটু আরাম দিতে পারছে না।
শুধু দিতে পারছে- প্রিয় কিছু মানুষের মুখ, আর তাদের স্পর্শ।”
মৃতদেহকে কবর দেওয়ার ঠিক ২৪ ঘন্টা পরে মানুষের শরীরের ভিতরে এমন পোকার উৎপত্তি হয় যা মৃতদেহের পায়ুপথ দিয়ে বেরোতে থাকে। এমন দুর্গন্ধ ছড়ায় যা সহ্য করা অসম্ভব। আর ঐ দুর্গন্ধ পোকার সমগোত্রীয় পোকাদের নিমন্ত্রণ দেয়। দুর্গন্ধ পেয়ে সমস্ত পোকা, মাকড়, বিছে মানুষের মৃতদেহের দিকে যাত্রা শুরু করে আর সবাই মিলে মানুষের মাংস খাওয়া শুরু করে দেয়।
কবরস্থ করার তিনদিন পরে সর্বপ্রথম প্রথমে নাকের অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে এবং পচন ধরে যায়। ছয় দিন পরে নখ খসে পড়তে থাকে। নয় দিন পরে চুল খসে পড়া শুরু হয়। মানুষের শরীরের সমস্ত লোম ঝরে পরে আর পেট ফোলা শুরু হয়ে যায়।
১৭ দিন পরে পেট ফেটে যায় আর শরীরের ভিতরের সমস্ত অংশ বাহিরে বেরিয়ে আসে। ৬০ দিন পরে মৃতদেহের শরীরের সমস্ত মাংস শেষ হয়ে যায়। মানুষের শরীরে একটু টুকরো মাংস অবশিষ্ট থাকে না। ৯০ দিন পরে সমস্ত হাড় একে অপরের থেকে পৃথক হয়ে যায়। এক বছর পরে মানুষের শরীরের সমস্ত হাড় মাটির সঙ্গে মিশে যায়। আর যে মানুষের মৃতদেহ কবরস্থ করা হয়েছিল তার সমস্ত অস্তিত্ব মুছে যায়।
অতএব আমার ভাই ও বোনেরা বলুন –
মানুষের এতো অহংকার, এতো আত্মগরিমা, এতো হিংসা, এতো বিদ্বেষ, এতো লালসা, এতো নাম, এতো সম্মান, এতো শক্তি, এতো ধণদৌলত, এতো ক্ষমতা কোথায় যায়? সবকিছুই তো মাটিতে মিশে যায়। মানুষের অস্তিত্ব কিই বা আছে? মাটি থেকে সৃষ্ট, মাটিতেই কবরস্থ হয়ে, মাটিতেই মিশে যায়। ৫ ফুট, ৬ ফুট, ৭ ফুটের মানুষ কবরে চলে যাওয়ার পরে তার নাম, চিহ্ন মুছে যায়। এই দুনিয়াতে গাম্ভীর্যের সঙ্গে বিচরণকারী যখন কবরে চলে যায় তখন তার অস্তিত্ব মাটি ছাড়া অন্য কিছুই থাকে না।
আমাদের উচিত মৃত্যু পরবর্তী এসব নিয়ে খুব বেশি পরিমাণে চিন্তাভাবনা করা। তাহলে আমার সুন্দর চেহারা নিয়ে আহংকার কম হবে। হিংসায় ভরা অন্তরটা নমনীয় হবে। চাওয়া- পাওয়ার তাড়না কম থাকবে। দুনিয়ার প্রতি লালসা কম জাগবে। আখিরাতকে সুন্দর করার তাড়না অনুভব হবে ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে বুঝার তৌফিক দান করুন (আমিন)
লাশগুলো দেখুন, যদি আমাদের কেউ এর মাঝে জীবিত অবস্থাতেই শুয়ে থাকি কেমন লাগবে?? নিজেকে ওই অবস্থানে রেখে কোনো এক রাতে কল্পনা করুন তো।
এরা সবাই একদিন দুনিয়ার বুকে দাপিয়ে বেড়িয়েছে,হয়তো কেউ ক্ষমতাশালী,বিত্তবান বা কেউ গরীব,দূর্বল কেউ ফর্সা,কালো কেউবা লম্বা,খাটো। তারা দুনিয়াতে হেসেছে কেঁদেছে, এখন তারা নিথর।
এভাবেই আপনাকে আমাকে যেতে হবে। ওই মাঝে সাদা কাফনে যদি এখন আপনাকে শোয়ানো হয় -তবে প্রস্তুত তো কবরের অন্ধকারকে গ্রহণ করতে? প্রস্তুত তো গ্রাস করে ফেলা বিচ্ছু পোকা গুলোকে মেনে নিতে? প্রস্তুত তো রবের সামনে দাঁড়াতে?
উদ্দেশ্যহীন জীবন,নিজেকে নিয়ে ফূর্তিতে মেতে থাকা জীবন,,, এঞ্জয় করে বেড়ানো লাইফগুলোকেও এখানে যেতে হবে!!